August 7, 2026, 11:02 pm
ডিএন২৪ ডেস্কঃ ‘সিনিয়র-জুনিয়র যেই হোক, আমরা তাদের এভাবেই পেটাতাম। কিন্তু দুর্ঘটনাক্রমে আবরারের মৃত্যু হয়েছে। আমাদের মতের সঙ্গে না মিললে কাউকে পিটিয়ে বের করে দিতে পারলে; ছাত্রলীগের হাইকমান্ড আমাদের প্রশংসা করত। ছাত্রলীগের এ সিস্টেমটাই আমাদের এমন নিষ্ঠুর বানিয়েছে।’
চাঞ্চল্যকর ও তথ্য নির্ভর এই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার হত্যার আসামি অনিক সরকার। তার জবানবন্দি শুনে হতভম্ব আদালত! এ সময় আদালতে উপস্থিত আইনজীবী ও সংশ্লিষ্ট সবাই নিরব হয়ে যান।আদালত সূত্রে বিষয়টি জানা গেছে।
আদালতে অনিক সরকার বলেন, ‘আবরারের মৃত্যুর জন্য সবাই আমাকে দোষ দিচ্ছে। কিন্তু আমি তো শুধু সিনিয়রদের নির্দেশনা মতো কাজ করেছি। সিনিয়ররা আমাকে ভয়ও দেখাচ্ছিল, ব্যর্থ হলে আমাকে এর ফল বহন করতে হবে। বুয়েটে ছাত্রলীগ এভাবেই কাজ করে।’
বুয়েট ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক মেহেদি হাসান রাসেল ও সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদি হাসান রবিনকে এজন্য দায়ী করলেন অনিক। তিনি বললেন, ‘আমি তো এমন ছিলাম না। নটর ডেম থেকে যখন বুয়েটে পড়তে আসি তখন খুব হাসিখুশি ছিলাম। জানি না কীভাবে এমন হয়ে গেলাম।’
আদালত সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১২ অক্টোবর) বুয়েট ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অনিক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তাতে দেখা যায়, আবরারের মৃত্যুর জন্য নিজেকে দায়ী মনে করছেন তিনি। তবে আবরারকে হত্যা করার উদ্দেশ্য তাদের ছিল না জানালেও অনিক একাই ক্রিকেট স্টাম্প দিয়ে এক নাগারে কয়েক ঘন্টা ধরে পিটিয়েছে।পিটুনির চোটে কয়েকবার বমি করে ফেললেও ঘাতকরা রেহাই দেয়নি ছেলেটিকে।
জানা যায়, এক পর্যায়ে আবরার যখন মারা যায় তখন তার লাশ সড়িয়ে ফেলার জন্যও ঘাতকরা প্রশাসনকে চাপ দেয়।এরমধ্যে পুলিশ চলে আসায় তাদের সে চেষ্টা সফল হয়নি।
সোমবার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে মরদেহের ময়না তদন্ত শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে ঢামেক ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডা. মো. সোহেল মাহমুদ বলেন, বাঁশ বা স্ট্যাম্প দিয়ে পেটানো হয়ে থাকতে পারে বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদকে। এর ফলেই রক্তক্ষরণ বা ব্যথার কারণে ফাহাদের মৃত্যু হয়েছে।